Xiaomi 17 Pro Max কেন এত উত্তেজনার সৃষ্টি করছে?

Xiaomi 17 Pro Max কেন এত উত্তেজনার সৃষ্টি করছে?

Xiaomi 17 Pro Max এর নাম থেকে শুরু করে ডিজাইন পর্যন্ত আইফোনের সাথে অনেক মিল রয়েছে।
তবে, পিছনে কেবল একটি সেকেন্ডারি স্ক্রিন থাকা সত্ত্বেও, পণ্যটি এখনও চীনে কেনাকাটার উন্মাদনা তৈরি করেছে।

অ্যাপলের iPhone 17 সিরিজ উন্মোচনের ঠিক পরেই Xiaomi তাদের নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন সিরিজ
Xiaomi 17 বাজারে আনে। এই সিরিজের মধ্যে Xiaomi 17 Pro এবং Xiaomi 17 Pro Max সবচেয়ে বেশি
আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ফোনটির পিছনের সেকেন্ডারি ডিসপ্লে, শক্তিশালী পারফরম্যান্স
এবং উন্নত ক্যামেরা সিস্টেম প্রযুক্তিপ্রেমীদের নজর কেড়েছে।

যদিও Xiaomi 17 Pro Max বর্তমানে শুধুমাত্র চীনা বাজারে সীমিত পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে,
তবুও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট, ইউটিউবার এবং রিভিউয়াররা ব্যক্তিগতভাবে
ডিভাইসটি সংগ্রহ করে পর্যালোচনা প্রকাশ করেছেন।

সামগ্রিকভাবে, Xiaomi 17 Pro Max তার ব্যতিক্রমধর্মী ডিজাইন ও সেকেন্ডারি স্ক্রিন ব্যবহারের
কারণে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে, যদিও কিছু ব্যবহারকারী এখনো এর ব্যবহারিক দিক নিয়ে
সংশয় প্রকাশ করেছেন।

একটি সেকেন্ডারি স্ক্রিন আসলে কী করতে পারে?

Xiaomi 17 Pro এবং 17 Pro Max এর ডিজাইন আধুনিক ও প্রিমিয়াম। এতে রয়েছে একটি ফ্ল্যাট ডিসপ্লে,
ধাতব ফ্রেম এবং অত্যন্ত পরিপাটি ফিনিশিং। প্রযুক্তি বিষয়ক ম্যাগাজিন Wired-এ লেখার সময়
লেখক সাইমন হিল মন্তব্য করেন যে ফোনটির হাতে নেওয়ার অনুভূতি অনেকটাই আইফোনের মতো।
তার ভাষায়, “এটি অ্যাপলের একই নামের আইফোন থেকে খুব একটা আলাদা নয়।”

এই সিরিজের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে রিয়ার ক্যামেরা ডিজাইনে। Xiaomi 17 Pro Max-এ
আগের বৃত্তাকার ক্যামেরা মডিউল বাদ দিয়ে একটি আয়তক্ষেত্রাকার মডিউল দেওয়া হয়েছে।
এর বাম পাশে দুটি ক্যামেরা লেন্স এবং ডান পাশে একটি টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে রয়েছে।
এই স্ক্রিনটিকেই Xiaomi নাম দিয়েছে “Dynamic Back Display”।

এই সেকেন্ডারি ডিসপ্লেটির আকার 2.86 ইঞ্চি। প্রথম দেখায় এটি অনেকের কাছে গিমিক মনে হলেও,
Xiaomi ধীরে ধীরে এটিকে ব্যবহারযোগ্য করার চেষ্টা করছে।

সেকেন্ডারি স্ক্রিনের ব্যবহার

বর্তমানে Xiaomi 17 Pro Max এর সেকেন্ডারি স্ক্রিনে সীমিত কিন্তু আকর্ষণীয় কিছু ফিচার রয়েছে।
ব্যবহারকারীরা এই স্ক্রিনে কাস্টম ওয়ালপেপার সেট করতে পারেন, ঘড়ি দেখতে পারেন,
ছোট টেক্সট লিখতে পারেন অথবা ভার্চুয়াল পোষা প্রাণীর অ্যানিমেশন ব্যবহার করতে পারেন।

এই ভার্চুয়াল পোষা প্রাণীগুলোর বিশেষত্ব হলো, ফোনের ব্যাটারি, নোটিফিকেশন বা চার্জিং
অবস্থার ওপর ভিত্তি করে তাদের অভিব্যক্তি পরিবর্তিত হয়।

কিছু নির্দিষ্ট অ্যাপের ক্ষেত্রে, এই সেকেন্ডারি স্ক্রিন রিয়েল-টাইম নোটিফিকেশনও দেখাতে পারে।
যেমন ফ্লাইটের সময়সূচি, রাইড বুকিং স্ট্যাটাস, খাবার ডেলিভারির আপডেট অথবা মিউজিক কন্ট্রোল।

এছাড়া ব্যবহারকারীরা QR কোড বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্ক্রিনে পিন করে রাখতে পারেন,
যাতে বারবার ফোন আনলক করার প্রয়োজন না হয়।

“আমি সময় এবং নোটিফিকেশন ফিচারগুলো খুব পছন্দ করি। ডেস্কে ফোনটি মুখ করে রাখলে
কাজের মাঝেই সহজে নোটিফিকেশন দেখে নেওয়া যায়।” – সাইমন হিল, Wired

রিয়ার ক্যামেরা দিয়ে সেলফি

Xiaomi 17 Pro Max এর একটি ব্যতিক্রমী সুবিধা হলো, সেকেন্ডারি স্ক্রিনকে
রিয়ার ক্যামেরার ভিউফাইন্ডার হিসেবে ব্যবহার করা।
এর ফলে ব্যবহারকারীরা রিয়ার ক্যামেরা দিয়েই উন্নত মানের সেলফি তুলতে পারেন।

যারা ফটোগ্রাফি বা ভ্লগিং করেন, তাদের জন্য এটি একটি কার্যকর ফিচার হতে পারে।
কারণ রিয়ার ক্যামেরার সেন্সর সাধারণত ফ্রন্ট ক্যামেরার চেয়ে অনেক ভালো।

গেমিং কেস ও নতুন অভিজ্ঞতা

Xiaomi আলাদাভাবে একটি বিশেষ গেমিং কেস বিক্রি করছে, যা ব্লুটুথের মাধ্যমে
Xiaomi 17 Pro Max এর সাথে সংযুক্ত হয়। এই কেসটি লাগানোর পর,
ব্যবহারকারীরা সেকেন্ডারি স্ক্রিনে গেম খেলতে পারেন।

যদিও স্ক্রিনের আকার ছোট হওয়ায় সব ধরনের গেম খেলার জন্য এটি উপযুক্ত নয়,
তবে এটি একটি নতুন ও পরীক্ষামূলক ধারণা হিসেবে বেশ আকর্ষণীয়।

ভিন্ন মতামত

সবাই যে এই সেকেন্ডারি স্ক্রিনে মুগ্ধ হয়েছেন, তা নয়।
CNET-এর লেখক অ্যান্ড্রু ল্যানক্সন বলেছেন,
তিনি এখনো Xiaomi 17 Pro-এর সেকেন্ডারি স্ক্রিনে পুরোপুরি প্রভাবিত নন।

“এটি হয়তো এমন একটি যুগান্তকারী ফিচার হতে পারে, যা ছাড়া ভবিষ্যতে বাঁচা যাবে না।
অথবা এটি কেবল প্রতিযোগিতা থেকে আলাদা হওয়ার জন্য যুক্ত করা একটি ফিচারও হতে পারে।” – Andrew Lanxon, CNET

উন্নত ক্যামেরা সিস্টেম

Xiaomi 17 Pro Max এর রিয়ার ক্যামেরা সিস্টেমে রয়েছে তিনটি 50 মেগাপিক্সেল লেন্স।
এর মধ্যে একটি প্রাইমারি সেন্সর, একটি আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্স এবং একটি প্রিজম টেলিফটো ক্যামেরা রয়েছে।

এই টেলিফটো ক্যামেরাটি 5x অপটিক্যাল জুম সাপোর্ট করে এবং প্রায় 30 সেন্টিমিটার দূরত্বে
ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি করতে সক্ষম।

চীনের জনপ্রিয় প্রযুক্তি ওয়েবসাইট এবং Weibo-তে প্রকাশিত ক্যামেরা রিভিউগুলোতে
Xiaomi 17 Pro Max এর ক্যামেরার প্রশংসা করা হয়েছে।
বিশেষ করে Light Hunter 950L সেন্সরের ডায়নামিক রেঞ্জ এবং ডিটেইল নিয়ে প্রশংসা শোনা গেছে।

শেষ কথা

সব মিলিয়ে Xiaomi 17 Pro Max একটি সাহসী ও পরীক্ষামূলক ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন।
এর সেকেন্ডারি স্ক্রিন হয়তো সবার জন্য প্রয়োজনীয় নয়,
তবে এটি স্মার্টফোন ডিজাইনে নতুন চিন্তার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

যদি Xiaomi ভবিষ্যতে সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে এই স্ক্রিনের ব্যবহার আরও বাড়াতে পারে,
তাহলে Xiaomi 17 Pro Max স্মার্টফোন ইন্ডাস্ট্রিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *